
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলা এবং ইউপি সচিবকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সেক্রেটারি কামরুজ্জামান মাসুদ আত্মগোপনে চলে যান এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুল ওরফে রুহুল আমিনকে দায়িত্ব দেন।
পরবর্তীতে একটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করে তিনি চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল হন। সোমবার তার দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহউদ্দিন রুহুল জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও স্থানীয় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় একদল ব্যক্তি সচিবের কক্ষে প্রবেশ করে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয় এবং কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। হামলার সময় তার পরনের শার্টও ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা ও চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা জানান, ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রও জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আগে থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত সচিবকে উদ্ধার করে। তিনি জানান, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।