
তাইওয়ানের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় চীনের সরকারি জাহাজের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড। তাইপের দাবি, বেইজিং সামরিক সংঘাতে না গিয়েই ‘গ্রে জোন’ কৌশলের মাধ্যমে দ্বীপটির ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং কোস্ট গার্ডের জাহাজ মোতায়েন করছে। যদিও তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে বেইজিং, সেই দাবি দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইপে।
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে তাইওয়ান ও আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় মোট ২৬৩টি চীনা সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে কোস্ট গার্ড, উদ্ধারকারী ও গবেষণা জাহাজ রয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ২০০টি এবং ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১৭১টি। তবে এ হিসাবে চীনের যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, চীন ‘গ্রে জোন’ কৌশলের অংশ হিসেবে সরকারি জাহাজ ব্যবহার করে সামরিক সংঘাত এড়িয়ে তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। জুন মাসে শুধু জাহাজের সংখ্যাই নয়, তাদের কার্যক্রমের তৎপরতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত মাসে প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে ‘আইন প্রয়োগকারী টহল’ শুরু করে চীনা কোস্ট গার্ড। তাইওয়ান এই পদক্ষেপকে উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করেছে। একই সময়ে প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের পাশ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ করে নাবিকদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চায় চীনা কোস্ট গার্ড।
তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, চীনের লক্ষ্য শুধু জাহাজ চলাচলে চাপ সৃষ্টি করা নয়; প্রয়োজনে দ্বীপটির বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজের প্রবেশও বাধাগ্রস্ত করা, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অবরোধ বা কোয়ারেন্টিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে তাইওয়ান। দেশটির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, শিগগিরই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরাসরি মহড়া পরিচালনা করা হবে।