
দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৭৩ শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৫ শিশু। ফলে এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট ৭৮৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪ জন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৬৯৯ শিশু। অর্থাৎ একদিনে হাম ও উপসর্গ মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৩ জনে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৬৪৯ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে ৪৯৮ জন শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা শেষে অনেক শিশুই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে সময়মতো টিকাদান, আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখার মতো পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব এলাকায় হামের সংক্রমণ বেশি, সেখানে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।