
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের হাজারো সাবেক কর্মী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। নতুন চাকরি খুঁজে পেতেও তাদের কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আট মাসে অ্যামাজন তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়। এর তিন মাস আগে আরও ১৪ হাজার কর্মী চাকরি হারান। ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৫৭ হাজারের বেশি করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করেছে।
শুধু অ্যামাজন নয়, মেটা, মাইক্রোসফট, সিসকো, ওরাকল এবং সেলসফোর্সের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও ব্যয় কমানো ও এআইকেন্দ্রিক কৌশলের অংশ হিসেবে কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে নতুন চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। মে মাসে প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা ২০২৪ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, টানা চার মাস ধরে অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাইয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে উল্লেখ করেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের স্বয়ংক্রিয়তা বাড়ানো এবং নতুন এআই প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের ফলে অনেক প্রচলিত পদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি আগেই সতর্ক করেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে কর্মীদের কাজের ধরন বদলে দেবে এবং আগামী কয়েক বছরে করপোরেট কর্মীর সংখ্যা কমে যেতে পারে।
চাকরি হারানো অনেক কর্মী জানিয়েছেন, তারা শত শত প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না। অনেক চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকশ আবেদন জমা পড়ছে। ফলে অভিজ্ঞ কর্মীরাও নতুন চাকরি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
অনেকে আগের তুলনায় কম বেতনে চাকরি গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বড় প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ছোট স্টার্টআপে যোগ দিচ্ছেন। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে অনেকেই এআই–সম্পর্কিত নতুন দক্ষতা অর্জনের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন।
তবে অ্যামাজনের দাবি, সব কর্মী ছাঁটাই কেবল এআইয়ের কারণে নয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এই পুনর্গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মী নিয়োগও অব্যাহত রয়েছে।