
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে একেবারে হতাশাজনকভাবে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় তারা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হলেও, শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ভাগ্য সহায় হয়নি জার্মানদের।
এই পরাজয়ের পর জার্মান শিবিরে নেমে এসেছে তীব্র হতাশা। অন্যদিকে, প্যারাগুয়ে জুড়ে বইছে উৎসবের ঢেউ। দেশটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, আর সমর্থকরা রাস্তায় নেমে উদযাপন করছেন ঐতিহাসিক এই জয়কে।
তবে জার্মানির জন্য এই হারের চেয়েও বেশি আলোচিত হয়েছে কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের মন্তব্য। ম্যাচ শেষে তিনি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন, বর্তমান জার্মান দলকে আর “শীর্ষ সারির দল” বলা যায় না।
নাগেলসমান বলেন, প্যারাগুয়ের মতো দলের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের। এটি আমাদের জন্য টানা তৃতীয় বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা। তাই বাস্তবতা মেনে নিতে হচ্ছে—আমরা এখন আর বিশ্বের শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে নেই।
তার এই মন্তব্য জার্মান ফুটবলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সমর্থক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, কোচের এই স্বীকারোক্তি দলের দীর্ঘমেয়াদি সংকটেরই প্রতিফলন।
জার্মানির সাবেক মিডফিল্ডার থমাস হিটজলস্পার্গারও দলের বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, জার্মান ফুটবলের ঐতিহ্য ছিল পাসিং ফুটবল, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা। কিন্তু এখন সেই ধারার অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
তার মতে, জার্মানি এখন আর প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর কোনো দল নয়। একসময় যেভাবে জার্মান দলকে প্রতিপক্ষরা ভয় পেত, সেই ‘ফিয়ার ফ্যাক্টর’ এখন আর নেই।
হিটজলস্পার্গার আরও বলেন, এখন প্রতিপক্ষরা জার্মানিকে সম্মান করে ঠিকই, কিন্তু ভয় পায় না। ফলে বড় ম্যাচে জার্মানির হার এখন আর অস্বাভাবিক কিছু মনে হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরাজয় শুধু একটি ম্যাচের ব্যর্থতা নয়, বরং জার্মান ফুটবলের কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রতিভা বিকাশ, ট্যাকটিক্যাল ভারসাম্য এবং মানসিক দৃঢ়তায় ঘাটতি স্পষ্ট হচ্ছে।
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরোতে না পারার পর এবার প্রথম নকআউট ম্যাচেই বিদায়—সব মিলিয়ে জার্মানির ধারাবাহিক ব্যর্থতা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
এদিকে, প্যারাগুয়ের এই জয় তাদের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শক্তিশালী জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তারা শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে।
সব মিলিয়ে, জার্মানির এই বিদায় শুধু একটি টুর্নামেন্টের সমাপ্তি নয়, বরং তাদের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—আবারও কি পুরনো শক্তিতে ফিরতে পারবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা?