
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে কেন্দ্রের ২০০ (দুইশত) গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
এই নিষেধাজ্ঞা পরীক্ষা চলাকালীন সময় পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের আশপাশে ২০০ গজ এলাকায় জনসাধারণের অবাধ চলাচল ও অবস্থান করা যাবে না।
ডিএমপির এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি শান্ত ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে কেন্দ্রের আশপাশে ভিড়, যানজট ও অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম এড়ানোও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য।
পরীক্ষা শুরুর সময় সাধারণত কেন্দ্রের বাইরে ভিড়, অভিভাবকদের অবস্থান এবং যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বিলম্ব এবং পরিবেশে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি থাকে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই ডিএমপি এই কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।
এর আগে শিক্ষা বোর্ডগুলোও পরীক্ষার সময় নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছে। তার মধ্যে রয়েছে কক্ষ প্রতি নির্দিষ্ট সংখ্যক পরীক্ষার্থী, পর্যাপ্ত কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ, এবং নির্ধারিত সময়ের আগে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করা।
এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি, মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধকরণ এবং প্রশ্নপত্র নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সঙ্গে এবার ডিএমপির ২০০ গজের নিরাপত্তা বলয় যুক্ত হওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ডিএমপি আশা করছে, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার সময় কেন্দ্র ঘিরে এমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা কমাতে সহায়ক হবে।