
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে দুই দেশের আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ভারসাম্য আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ইউটিউব টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্য নীতির মূল ভিত্তি হলো মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক বাণিজ্য। তার মতে, কোনো একটি দেশ যদি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে কিন্তু সে তুলনায় আমদানি না করে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এই সম্পর্ক টেকসই হয় না। তাই দুই দেশের বাণিজ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিমাণে তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি তুলনামূলকভাবে কম। এই ব্যবধান কমাতে সম্প্রতি দুই দেশ একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ যেমন শুল্ক সুবিধা পাবে, তেমনি কাস্টমস, শ্রম খাত এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কিছু সংস্কারও বাস্তবায়ন করতে হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
টকশোতে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম ও কৃষিপণ্য আমদানি বাড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, মার্কিন গমে অপচয়ের হার তুলনামূলকভাবে কম, যা সরবরাহ ব্যবস্থার গুণগত মান নির্দেশ করে।
এছাড়া তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার আরেকটি বড় দৃষ্টান্ত।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে আগামীতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তার ভাষায়, এই খাতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। মার্কিন কোম্পানিগুলো তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী হলেও, এ ক্ষেত্রে নীতিগত ও বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
ভিসা নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেক সময় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা বা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করার মতো সমস্যা দেখা যায়। তাই জাল কাগজপত্র ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ যাতে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে, সেই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে যক্ষ্মা ও হামসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পাঁচ বছরের নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে নানা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের মতো শহরে বছরজুড়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উপলক্ষে ঢাকায় ২৫০টি রিকশা মার্কিন পতাকার রঙে সাজানো হয়েছে এবং একটি বিশেষ প্রদর্শনী ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ আয়োজনের কথাও জানান তিনি।
সবশেষে তিনি চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।