
ঢাকাসহ দেশের ছয় জেলায় চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ কিছু জায়গায় কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
Article (600–700 words):
ঢাকাসহ দেশের ছয় জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ কিছু কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৯ জুন) সকালে প্রকাশিত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। একইসঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছু কিছু জায়গায় কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে দেশের কিছু অঞ্চলে গরমের অনুভূতি কিছুটা কমতে পারে।
বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নিয়েও সুখবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়ও এমন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণও হতে পারে। ফলে দেশের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা বা স্বল্পমেয়াদি দুর্ভোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে, যেখানে ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসছে। এর ফলে একদিকে যেমন কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ কমতে পারে, অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।
গরমে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষের জন্য এই পূর্বাভাস কিছুটা স্বস্তির খবর হতে পারে। তবে একইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় অবস্থান, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া কিংবা বজ্রপাতের সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন কৃষিক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হলে নিচু এলাকায় পানি জমে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা কমে গেলে কৃষিকাজে স্বস্তি ফিরতে পারে।
সব মিলিয়ে, দেশের আবহাওয়ায় এখন পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ কিছু জায়গায় কমে আসতে পারে এবং একইসঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আবহাওয়া থাকবে পরিবর্তনশীল ও কিছুটা অস্থির।