
রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় জিপসামবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উঠে যাওয়ায় প্রায় ছয় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় খুলনা-ঢাকা এবং রাজবাড়ী-ভাঙ্গা রুটের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, যশোরের নওয়াপাড়া থেকে জিপসামবোঝাই ট্রাকটি মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভোরে বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি রেললাইনের ওপর উঠে যায়। এতে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
খবর পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটি সরানোর কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল ১০টার দিকে ট্রাকটি রেললাইন থেকে সরানো সম্ভব হয়। এরপর ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার কারণে খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস রাজবাড়ীর পাচুরিয়া স্টেশনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। একই সময়ে রাজবাড়ী থেকে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি রাজবাড়ী এক্সপ্রেস। পরে রেললাইন সচল হওয়ার পর নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস প্রায় ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং রাজবাড়ী এক্সপ্রেস প্রায় ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট বিলম্বে যাত্রা শুরু করে।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির চালকের সহকারী মো. সোহেল জানান, চালক অসুস্থ বোধ করায় তিনি ট্রাকের স্টিয়ারিং ধরেন। চালানোর সময় হঠাৎ তার ঘুম চলে আসায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উঠে যায়।
রাজবাড়ী রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. মাহবুব হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ের কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সকাল ১০টার দিকে ট্রাকটি সরানোর পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এ ঘটনায় দুটি ট্রেনের সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব হয়েছে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলের মাসিক টোল আয়ের তুলনায় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী টানেল থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়। বিপরীতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয় প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৯১ টাকা। ফলে টানেলটির পরিচালন ব্যয় এখনো টোল আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর পরিচালনার জন্য সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা, আধুনিক বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু রাখতে হয়। এসব ব্যবস্থার কারণেই পরিচালনা ব্যয় তুলনামূলক বেশি।
তিনি আরও জানান, টানেল চালুর শুরুতে প্রতিদিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় হতো। তবে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যয়-সংকোচন উদ্যোগের ফলে বর্তমানে দৈনিক ব্যয় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে টানেলকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক করতে সরকার আরও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
এদিন সংসদে অন্যান্য প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী জানান, রাজধানীর যানজট নিরসনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত দেশের প্রথম বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিতকরণ এবং নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেসবিহীন যানবাহন পর্যায়ক্রমে সড়ক থেকে অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।