
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ব্যক্তিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেলপাড়া মির্জাবাড়ি মোড় এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নিকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলম (৪২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ এবং স্বামীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে জাহাঙ্গীর আলমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে দেওয়া হয়। এছাড়া হাতের রগ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর সকালে অভিযুক্ত স্ত্রী স্থানীয় কয়েকজনের কাছে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম জানান, পারিবারিক বিরোধ ও স্বামীর পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।