
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর জাতীয় সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করে ৪ লাখ টাকা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের করের চাপ কমানো এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত করের হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেন, যাতে উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য ও সহনীয় হয়।
বাজেট আলোচনায় সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ শর্ত প্রত্যাহারের সুপারিশ করে বলেন, এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সম্পত্তি নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বাজেট কার্যকর হলে হার্টের রিং এবং চোখের লেন্স স্থাপনের খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যে তিনি প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে বাজেট ঘোষণার পরও বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে অর্থপাচারের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পড়েছিল, তবে বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
এ ছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে অতীতের বিতর্কে না জড়িয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।