
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা সীমান্ত দিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার পাথরঘাটা গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১১০ নম্বর মেইন পিলার দিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে জড়ো হয়ে পুশইনের চেষ্টার প্রতিবাদ জানান।
নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোজাম্মেল হক জানান, বিএসএফ সদস্যরা সাতজনকে সীমান্তের শূন্যরেখা পর্যন্ত নিয়ে এলেও বিজিবির বাধা এবং স্থানীয়দের উপস্থিতির কারণে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। পরে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের নিজেদের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
সীমান্ত এলাকায় এমন ঘটনা নতুন নয়। চলতি মাসেই মেহেরপুর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ছয়জন, ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্তে চারজন, ২৫ জুন গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্তে সাতজন, ধলা সীমান্তে তিনজন এবং কাজিপুর সীমান্তে দুইজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।