
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সাধারণ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকার বিবেচনায় বর্তমান সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকারের কার্যকর উদ্যোগ ও সুদৃঢ় সদিচ্ছার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এবার বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, জ্বালানি ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের জনগণ, বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মানুষের পানি সংকট এবং তিস্তা নদী-সংক্রান্ত উদ্বেগ সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ অবগত এবং এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
উত্তরাঞ্চলের পানির অধিকার নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতিকে গুরুত্ব দিয়েছে। সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলেই কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং সেচব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের জন্য সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন এবং সেচব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি সংকট ও তিস্তা ইস্যুতে সরকারের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।