
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই বাজেট শুধু একটি অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপরেখা।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের প্রভাব থেকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নয়নের সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসবে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংসদের যাত্রাপথে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ভবিষ্যৎমুখী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য থেকেই সরকার কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট উপস্থাপনের দিনই ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার একটি দুর্বল অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে যাত্রা শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট, উচ্চ ব্যয় এবং অর্থ পাচারের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এই পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে না দেখিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক বিদেশ সফরে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতির ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে তিন ধাপের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর তৃতীয় ধাপে উদ্ভাবননির্ভর, প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।