
রাজধানীর দৃষ্টিনন্দন ৩০০ ফিট সড়ক এখন গভীর রাতে অবৈধ রেসিং ও বেপরোয়া গতির কারণে এক ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। দিনের তুলনায় রাতের বেলায় এই সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত যানবাহন কম থাকায় একদল তরুণ ব্যক্তিগত গাড়ি ও মডিফাইড মোটরসাইকেল নিয়ে এখানে রেসিংয়ে অংশ নেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটে এই সড়কে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অনেক মানুষ, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই তরুণ-তরুণী। অভিযোগ রয়েছে, অনেক চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বা রিলস তৈরির উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। কেউ কেউ মোটরসাইকেলে ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্টও করেন। ফলে সামান্য নিয়ন্ত্রণ হারালেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই দলবেঁধে মডিফাইড মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণরা ৩০০ ফিট সড়কে জড়ো হন। শুরুতে ভিডিও ধারণ করলেও রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্ভিস রোড ও মূল সড়কে শুরু হয় গতি প্রতিযোগিতা। তীব্র শব্দ ও উচ্চগতিতে চলাচলের কারণে পুরো এলাকা কার্যত রেসিং ট্র্যাকে পরিণত হয়।
যদিও সড়কে মোটরসাইকেলের জন্য ৬০ কিলোমিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ৮০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করা রয়েছে, বাস্তবে অনেক চালকই তা মানেন না। কয়েকটি চেকপোস্ট অতিক্রম করার পরই অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এই সড়কে এখনো স্বয়ংক্রিয় স্পিড মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হয়নি। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনেজের ঘাটতি রয়েছে এবং অনেক সৌরচালিত স্ট্রিটলাইটও অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকিও বাড়ছে।
জানা গেছে, অবৈধ রেসিং ঠেকাতে নিয়মিত চেকপোস্ট ও টহল পরিচালনা করা হলেও অনেক রেসার মূল সড়ক ছেড়ে ভেতরের রাস্তায় চলে যাওয়ায় তাদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এসব রেসিংয়ে অংশ নেওয়া অনেকেই পুরান ঢাকা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া জানান, অতিরিক্ত গতিতে চলা মোটরসাইকেল ও দামি ব্যক্তিগত গাড়ির কারণে প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, বেপরোয়া গতিতে আসা এক মোটরসাইকেল আরোহী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ৩০০ ফিট সড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ করা হয় না। বিশেষ করে নিহতদের স্বজনরা অনেক সময় মামলা বা অভিযোগ করতে আগ্রহ দেখান না। সাধারণত ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য আইনি প্রয়োজন দেখা দিলে অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলা করা এবং যানবাহন রেকারে পাঠানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা ও স্পিড ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব প্রযুক্তি চালু হলে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং দুর্ঘটনার হার কমবে।