
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পৌর এলাকার লক্ষ্মীপুর গ্রামে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রেমিকা নাইমা জাহানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত নাইমা জাহানকে গ্রেপ্তার করেছে এবং নিহতের বন্ধু আরিয়ান খান মাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের বড় ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অভিযুক্ত নাইমা জাহানের দাবি, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পর্কের একপর্যায়ে তারা একাধিকবার ঢাকায় দেখা করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার তিন মাসের গর্ভপাত ঘটানো হয় এবং পরে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে সিয়াম বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে তিনি সিয়ামের ডাকে লক্ষ্মীপুরে যান। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা এবং সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান অবস্থান করছিলেন। সোমবার ভোরে বাসা থেকে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সিয়ামকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিয়ামের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে নাইমা ও আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে থানায় নিয়ে যায় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি ছুরি উদ্ধার করে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সামছুল আরেফিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোছাইন বলেন, অভিযুক্ত নাইমা জাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।