
দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভাবান খেলোয়াড় গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। তাদের এই ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী ২৩ জন খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা ও প্রাইজমানি প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে আয়োজন করা হয় ৯ম জাতীয় বেসবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শুধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই থেমে নেই, বরং জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনেও তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে এই বাহিনী।
তিনি আরও বলেন, কৃতি খেলোয়াড়দের এই সম্মাননা তাদের কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের যথার্থ স্বীকৃতি। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও উৎসাহী করবে এবং দেশের জন্য নতুন সাফল্য বয়ে আনতে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে কাবাডি, উশু, বক্সিং, টেবিল টেনিস, কারাতে, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও ভারোত্তোলনসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ২৩ জন খেলোয়াড়ের হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী আনসার ও ভিডিপি একাডেমির মাঠে আয়োজিত ৯ম জাতীয় বেসবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি দেশে বেসবল খেলার বিকাশে আনসার-ভিডিপির অবদানের প্রশংসা করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ পুলিশ বেসবল দলের অধিনায়কের হাতে বিজয়ী ট্রফি তুলে দেন প্রধান অতিথি। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তরুণ প্রজন্মের মেধা ও শারীরিক বিকাশে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বেসবলের মতো সম্ভাবনাময় খেলাকে রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে সরকার কাজ করছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বলেন, ক্রীড়া একটি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। তাই তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নে এই বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহত্তম তৃণমূলভিত্তিক বাহিনী হিসেবে আনসার-ভিডিপি দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া উন্নয়ন, প্রতিভা লালন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করে আসছে। ইতোমধ্যে বাহিনীর অনেক খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আনসার-ভিডিপির বহুমুখী অবদানের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ক্রীড়া উন্নয়ন ও প্রতিভা বিকাশে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।