
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পরপরই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্কটল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ স্টিভ ক্লার্ক। ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়ের পরই তিনি নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
স্কটল্যান্ডের জন্য ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। নকআউট পর্বে ওঠার জন্য ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেনি ইউরোপের দলটি। পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছিলেন ক্লার্ক। তবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পরই তিনি সাত বছরের দায়িত্বের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন। তার এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হলেও, দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রুপপর্বে স্কটল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ব্রাজিল ছাড়াও তারা মরক্কোর কাছে পরাজিত হয়। একমাত্র জয়টি আসে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল হাইতির বিপক্ষে। এমনকি সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবেও তারা শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়।
তবে ক্লার্কের কোচিং ক্যারিয়ার শুধুমাত্র এই ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। তার অধীনেই স্কটল্যান্ড টানা তিনটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। ২০২১ ও ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফেরায় স্কটল্যান্ডকে। এই সাফল্যগুলো তাকে দেশটির অন্যতম সফল কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পদত্যাগের সময় সমর্থকদের উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তা দেন ক্লার্ক। তিনি বলেন, তার কোচিং জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ ছিল খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাটানো সময়। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া যাত্রায় যে স্মৃতিগুলো তৈরি হয়েছে, তা কখনো ভুলবার নয়। খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমই দলের উন্নতির মূল চালিকাশক্তি ছিল।
অন্যদিকে স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল ক্লার্কের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া হতাশাজনক হলেও ক্লার্কের অধীনে স্কটল্যান্ড যে উন্নতি করেছে, তা অসাধারণ। ২০১৯ সালে নিচের সারির দল থেকে শুরু করে বড় টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেওয়া পর্যন্ত যাত্রাটি ছিল উল্লেখযোগ্য।
ম্যাক্সওয়েল আরও জানান, ক্লার্কের অবদান কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়। ভবিষ্যতে স্কটল্যান্ডের ফুটবল উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে তার কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান, যারা বিপুল ব্যয় করে বিশ্বকাপে দলকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত হয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে, স্টিভ ক্লার্কের বিদায় স্কটল্যান্ড ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। এখন দেখার বিষয়, তার উত্তরসূরি কে হন এবং ভবিষ্যতে দলটি আবার কত দ্রুত নিজেদের ঘুরে দাঁড়াতে পারে।