
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় নারীর ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই নারীদের ক্ষমতায়নকে শুধু উন্নয়নমূলক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকি মিলনায়তনে ‘ইমপাওয়ার উইমেন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিস (ফেজ টু)’ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও সম্প্রসারণ কর্মশালা’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইমপাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে যে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ও সফলতা অর্জিত হয়েছে, তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণের সময় এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে গ্রামীণ নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হন। এ কারণে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, জীবিকা উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা ইতোমধ্যে নিজেদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, জীবিকা উন্নয়ন এবং সামাজিক নেতৃত্বে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। এই সাফল্যকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নারীর মতামত ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। জলবায়ু পরিকল্পনায় জেন্ডার-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতেও জলবায়ু অভিযোজন ও নারীর ক্ষমতায়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নারীকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা, যাতে তারা পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
কর্মশালায় প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন জেলার অভিজ্ঞতা, সাফল্য এবং শেখা বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এসব সফল উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলেও সম্প্রসারণের সুপারিশ করেন।
অনুষ্ঠানে ইউএন ওমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি শিং, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, গবেষক, এনজিও প্রতিনিধি এবং কুড়িগ্রাম, জামালপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও কক্সবাজার জেলার প্রায় শতাধিক নারী উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।