
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর-ভাঙ্গা অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রামের বাসিন্দা এবং মানিকদহ ইউনিয়নের ৪ থেকে ৫টি গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বরের সমর্থক এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই রবিবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেয় এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ কয়েক দফায় ছড়িয়ে পড়ে এবং দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। এতে পুলিশের সার্কেল কর্মকর্তা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), একাধিক পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাংবাদিকসহ অনেকেই আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. হেলালুদ্দিন জানান, সকাল থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় চার কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের জন্য জেলা সদরকে অবহিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে, ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।