
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। রবিবার (২৮ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে কিছু গণমাধ্যমের উপস্থাপনায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং সে কারণেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে আ ফ ম খালিদ হোসেন উল্লেখ করেন, মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যয় 'দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩' অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইনের আওতায় প্রয়োজন হলে দেশ বা বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করে থাকে।
তিনি জানান, বিদেশে চিকিৎসার আগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে। বোর্ডের মতে, তার প্রয়োজনীয় ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দেশে না থাকায় বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারপ্রধানের অনুমোদন নিয়ে তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
খালিদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়। পরে অপারেশন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার হাসপাতাল বিল পরিশোধ করা হয়। তিনি দাবি করেন, প্রতিটি ব্যয়ের রসিদ, বিল ও ভাউচার যথাযথ নিয়মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সরকার কেবল হাসপাতাল, অপারেশন ও ওষুধের ব্যয় বহন করেছে। অন্যদিকে তার সঙ্গে থাকা সহযাত্রীর ব্যয়, হোটেল, খাবার ও যাতায়াতের খরচ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়ম থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন এবং আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধাই গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে জনমনে অযথা সন্দেহ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।