
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত স্পারসোর প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছান তিনি।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে এই পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক মতবিনিময়ও করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে স্পারসোর চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের উদ্ভাবন, গবেষণা কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং চলমান উন্নয়নমূলক উদ্যোগের বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পারসোকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও স্বনির্ভর মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং টেকসই উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্পারসোকে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গবেষকদের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ আরও গতিশীল করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মহাকাশ বিজ্ঞান, উপগ্রহ প্রযুক্তি এবং দূর অনুধাবন প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) দেশের মহাকাশ বিজ্ঞান, উপগ্রহ প্রযুক্তি, রিমোট সেন্সিং এবং ভূ-তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করে আসছে। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ এবং কৃষি খাতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।