
জাতীয় সংসদে মাদক পাচার, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে দেশের সবচেয়ে বড় মাদকের চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসার আশপাশের এলাকা দিয়ে দেশে প্রবেশ করত এবং বর্তমানে সেই রুটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সংসদে বক্তব্যের সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অতীতে কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে ঘিরে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বর্তমানে যদি সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে সীমান্তপথে মাদক পাচারের নিয়ন্ত্রণ এখন কার হাতে রয়েছে—এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধে অতীতেও আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং বর্তমানেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপথে ইয়াবা, আইস, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচারের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করলেও পাচারচক্র পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি—এমন আলোচনা বিভিন্ন সময়ে হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ ও প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ ও মন্তব্যগুলো সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।