
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের উপকূলীয় এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের সিরিক, বান্দার-এ-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে ওয়াশিংটন। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
মার্কিন হামলার পর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। একই সময়ে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলা এমন সময় ঘটল, যখন লেবানন সরকারের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাত্র একদিন অতিবাহিত হয়েছে।
অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলের সম্ভাব্য চুক্তি লঙ্ঘন ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তবে হিজবুল্লাহ ওই চুক্তিকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস বলে দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সাম্প্রতিক এসব ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।