
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ফোন করে ডেকে নিয়ে বাহার নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে।
নিহত বাহার (৩০) ওই এলাকার রশিদ মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সকালে প্রতিবেশী রাসেলের স্ত্রী ঝুমু মোবাইল ফোনে বাহারকে ডেকে নেন। পরে তিনি নির্ধারিত স্থানে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কী কারণে তাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা বাহারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়।
খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে চাইছে না পুলিশ।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দত্তপুর পূর্বপাড়া ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। অনেকেই বলেন, দিনের আলোয় এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে একজনকে ফোন করে ডেকে এনে হত্যা করার অভিযোগ ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে। ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, বাহার শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তবে তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। পুলিশও এখন পর্যন্ত হত্যার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি। ফলে পুরো ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্যই নয়, পুরো এলাকার মানুষের জন্যও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ফোনে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ থাকায় ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। তদন্তে এসব দিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সব মিলিয়ে, কুমিল্লার লালমাইয়ে বাহার হত্যাকাণ্ড এখন স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও আলোচনার প্রধান বিষয়। পুলিশি তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন সবার নজর। দ্রুত প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।