
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো নামাজ। একজন মুমিনের জীবনে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এই ইবাদতকে যথাযথভাবে আদায় করা অত্যন্ত জরুরি। আর নামাজ কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো, তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত সুন্নাহ অনুযায়ী আদায় করা। নামাজের প্রতিটি রুকন, ওয়াজিব ও সুন্নাহর নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে নামাজের শুরুতে বলা তাকবিরে তাহরিমা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক মুসল্লির মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে—তাকবিরে তাহরিমায় হাত তোলার সঠিক সময় কোনটি? তাকবির বলার আগে হাত তুলতে হবে, নাকি তাকবির বলার পর?
এই বিষয়ে ইসলামের দিকনির্দেশনা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাকবিরে তাহরিমায় হাত তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হলো আগে হাত তোলা, এরপর তাকবির বলা।
সহিহ মুসলিম শরিফের ৩৯০ নম্বর হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নামাজের জন্য দাঁড়াতেন, তখন তিনি দুই হাত কাঁধ বরাবর তুলতেন এবং এরপর তাকবির বলতেন। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, নামাজ শুরু করার সময় আগে হাত উঠিয়ে তারপর “আল্লাহু আকবার” বলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ। তাই এটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও উত্তম পদ্ধতি।
তবে এ বিষয়ে আরও কিছু বৈধ পদ্ধতিও রয়েছে, যেগুলো অনুসরণ করলে নামাজ সহিহ হয়ে যাবে। ইসলামি ফিকহের আলোচনায় দেখা যায়, তাকবিরে তাহরিমা আদায়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ভিন্নতা থাকলেও নামাজ বাতিল হয় না। যেমন, কেউ যদি “আল্লাহু আকবার” বলতে বলতে হাত তোলে, তাহলেও তা জায়েজ। আবার কেউ যদি আগে তাকবির বলে, এরপর হাত তোলে, তাহলেও তার নামাজ শুদ্ধ হবে। অর্থাৎ, এসব পদ্ধতির যেকোনো একটিতে নামাজ আদায় করা বৈধ।
তবে বৈধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তম হওয়ার বিষয়টি এক নয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে যে আমলটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই সর্বোত্তম। তাই তাকবিরে তাহরিমার ক্ষেত্রে আগে হাত তুলে তারপর তাকবির বলা সুন্নাহসম্মত ও উত্তম পদ্ধতি হিসেবে গণ্য। এতে নামাজের শুরুতেই নবীজির অনুসরণ নিশ্চিত হয়।
অনেক সময় সাধারণ মুসল্লিরা এ ধরনের সূক্ষ্ম বিষয়ে দ্বিধায় পড়ে যান। কেউ কেউ মনে করেন, তাকবির বলার সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলতে হবে, আবার কেউ মনে করেন, তাকবির শেষ হওয়ার পর হাত তুলতে হবে। কিন্তু হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, এসবের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো তাকবিরের আগে হাত তোলা। এতে নামাজের শুরুতেই সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ ঘটে। তবে কেউ যদি অন্য বৈধ পদ্ধতিতে তাকবিরে তাহরিমা আদায় করেন, তাহলেও তার নামাজ সহিহ হবে।
নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে ছোট ছোট বিষয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ করা একজন মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব। কারণ, ইবাদতের সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক আদায়েই নয়, বরং তা সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পন্ন করার মধ্যেই নিহিত। তাই নামাজের শুরুতে তাকবিরে তাহরিমা বলার আগে হাত তোলা উত্তম, আর এটাই নবীজির প্রদর্শিত পদ্ধতি।
সারকথা হলো, তাকবিরে তাহরিমায় হাত তোলার সবচেয়ে সঠিক ও সুন্নাহসম্মত সময় হলো তাকবির বলার আগে। তবে তাকবির বলতে বলতে বা তাকবিরের পর হাত তুললেও নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবুও সর্বোত্তম আমল হলো আগে হাত তুলে এরপর “আল্লাহু আকবার” বলা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধভাবে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন।