
দেশে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির বিকাশ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর কিডনি ফাউন্ডেশনে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ষষ্ঠ বাংলাদেশ-কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসাবিজ্ঞানী, গবেষক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। চিকিৎসা খাতের টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গবেষণা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বিশেষভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করলে দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
দুই দিনব্যাপী এই বাংলাদেশ-কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্সে চিকিৎসা গবেষণা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রযুক্তির উন্নয়নে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা কিডনি প্রতিস্থাপন, ট্রান্সপ্লান্ট ল্যাবরেটরির সক্ষমতা বৃদ্ধি, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অঙ্গদান ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ গবেষণার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অঙ্গ প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করা সম্ভব। একই সঙ্গে দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনকে দুই দেশের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে চিকিৎসা গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
চিকিৎসা প্রযুক্তি ও গবেষণার বিকাশের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার লক্ষ্যে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।