
ফেনীর ফুলগাজীতে নুরপুর দারুল উলূম মহিউসসুন্নাহ মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের সবক প্রদান করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হিফজ শেষ করা ১২ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবক প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তারা কোরআনের হাফেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় আবহে সাজানো এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম, শিক্ষক, অভিভাবক, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতেই এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান মজুমদার। তিনি শিক্ষার্থীদের সবক প্রদান করেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করেন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। আরও বেশি বেশি ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আমিনুর রহমান মজুমদার বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে প্রত্যেক পিতামাতার উচিত সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষায় উৎসাহিত করা। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে শিশুরা সঠিক পথে বেড়ে উঠতে পারে। এতে শুধু ব্যক্তিগত জীবনই নয়, সমাজ থেকেও অনেক অনাচার দূর হবে। তিনি মাদ্রাসার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করা একটি বড় অর্জন। এটি শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়, বরং কোরআনের শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতা জীবনে ধারণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। একজন হাফেজ সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন, কারণ তিনি আল্লাহর কালাম হৃদয়ে ধারণ করেন। তাই এমন অর্জনকে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্ব।
নুরপুর দারুল উলূম মহিউসসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘ পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ১২ জন শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন করেছে। তাদের এই সাফল্য মাদ্রাসার জন্য গর্বের বিষয়। শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেন, এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কোরআনের আলো ছড়িয়ে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নুরুল্লাহ সাহেব উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দোয়া করেন এবং তাদের কোরআনের শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হিফজ সম্পন্ন করা শেষ নয়, বরং এটি একটি নতুন পথচলার শুরু। কোরআনের হাফেজ হিসেবে তাদের আচরণ, চরিত্র ও জীবনযাপন যেন কোরআনের শিক্ষার প্রতিফলন হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এছাড়া হিফজ বিভাগের প্রধান হাফেজ হাবিবুর রহমানসহ মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহ দেন।
সবক প্রদান অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অভিভাবকদের চোখে ছিল সন্তানের সাফল্যের আনন্দ, আর শিক্ষকদের মুখে ছিল গর্বের হাসি। ধর্মীয় শিক্ষার এই অর্জন স্থানীয় এলাকাতেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
ফুলগাজীর এই আয়োজন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি সুন্দর উদাহরণ। পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের সবক প্রদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।