
পাবনার সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পদ্মার মধ্যচরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জোতকাকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি মঞ্জু শেখ (৪০), তিনি স্থানীয় বাসিন্দা দারোগ আলী শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েক দিন ধরেই পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবারও এ নিয়ে বিরোধের ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন চরে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় মঞ্জু শেখ মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
নিহত মঞ্জু শেখ সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফের ভাতিজা এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীরও ভাতিজা বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে শেখ আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন। এতে বাধা দিতে গেলে তার ভাতিজাকে গুলি করা হয়। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তবে কারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কোনো নাম উল্লেখ করেননি।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় মঞ্জু শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের পেছনের বিরোধ এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।