
লেবাননকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কড়া অবস্থান নিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, ইসরায়েলকে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই লেবাননের ভূখণ্ড ত্যাগ করতে হবে।
এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ডে প্রভাব বিস্তার এবং দেশটিকে দখলে নেওয়ার বৃহত্তর লক্ষ্য নিয়েই ইসরায়েল সেখানে অবস্থান করছে।
নাইম কাসেমের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তার বক্তব্যে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং ইসরায়েলের উপস্থিতির কঠোর সমালোচনা করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানও একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে ঘিরে কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আঞ্চলিক আকাশসীমায় সামরিক বিমানের চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের আকাশপথে সামরিক বিমানের উপস্থিতিকে তেহরান নিজেদের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ ধরনের কার্যক্রম আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করতে বা তাদের সামরিক তৎপরতা থামাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরান নীরব থাকবে না। নিজেদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকির জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বক্তব্যে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে তারা প্রস্তুত থাকবে। তবে বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ বা সময়সীমার উল্লেখ করা হয়নি।
লেবাননকে ঘিরে হিজবুল্লাহর অবস্থান এবং ইরানের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।