
নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের গোয়াইলবাড়ি গ্রামের ভোঁদড় পল্লীতে বিশ্ব ভোঁদড় দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব। বৃহস্পতিবার বিকেলে উৎসবের প্রথম দিনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দুই শতাধিক শিশু রং-তুলির মাধ্যমে তাদের কল্পনা, প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক জীবনের নানা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলে।
শিশুদের আঁকা ছবিতে স্থান পায় লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা, ভাষা শহীদদের স্মৃতি, শাপলা ফুল, সবুজে ঘেরা প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন এবং ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার শতবর্ষী ঐতিহ্য। ছোট শিল্পীদের তুলিতে ভোঁদড় পল্লীর মানুষের জীবনযাত্রা ও নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতিও জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ইন্টারন্যাশনাল অটার সারভাইভাল ফান্ডের সহযোগিতায় অটার ফিশিং কমিউনিটি ফাউন্ডেশন এবং এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে উৎসবটি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি রচনা প্রতিযোগিতা, ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকারের প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রীতি প্রিয়ন্তি জানায়, সে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে এবং জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য এঁকেছে। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অনেক শিশু একই রকম উচ্ছ্বাস নিয়ে নিজেদের ছবি আঁকায় ব্যস্ত ছিল।
অভিভাবক রিমি গোশ্বাল বলেন, শিশুদের হাতে আঁকা ছবিগুলো দেখে মনে হয়েছে যেন প্রতিটি ছবিই জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তার মেয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আনন্দ পেয়েছে বলে জানান তিনি।
কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইতি রানী বিশ্বাস বলেন, তাদের বিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশটি খুদে শিল্পীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিবেশকর্মী সামছুল ইসলাম স্বপন বলেন, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো বিপন্ন ভোঁদড় প্রজাতি সংরক্ষণ, চিত্রা নদীর দূষণরোধ, জলজ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও পরিচিত করা। পাশাপাশি ভোঁদড় পুনর্বাসন ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, ইকো-ট্যুরিজম ও স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং এ ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির পথে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের আশা, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে আরও সচেতন করে তুলবে।