
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ একটি বার্তায় দুর্যোগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় তিনি এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে শুধু একটি দেশের সংকট নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি ভূমিকম্পে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক সেকেন্ডের একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা বসতি, অবকাঠামো ও মানুষের স্বপ্নকে মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে। তার মতে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, আধুনিক স্থাপনা কিংবা অর্থনৈতিক সক্ষমতা—কোনোটিই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনে মানুষের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানুষের জন্য আত্মসমালোচনা, তওবা এবং মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেন, পার্থিব জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে অনেক সময় আখিরাতের কথা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং প্রত্যেক মানুষকেই একদিন মহান আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে হবে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। তাই ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, সংকীর্ণ সড়ক এবং পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাব ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান স্থাপনার নিরাপত্তা মূল্যায়ন, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা উন্নয়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতন থাকা, নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেন।
বার্তার শেষাংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার, দোয়া এবং নেক আমলের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে শুধু বৈজ্ঞানিক বা ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেই যথেষ্ট নয়; বরং এটি মানুষের জন্য আত্মসমালোচনা, নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজের জীবন ও আমল পর্যালোচনারও একটি উপলক্ষ হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কার্যকর দুর্যোগ প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এ দুই ধরনের প্রস্তুতির সমন্বয়ই ব্যক্তি ও সমাজকে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলতে পারে।