
হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বৃহৎ পরিসরের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে না।
আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ থেকে নাবিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন না করে পরবর্তী ধাপের অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই আপাতত উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের দাহিত বন্দরের দক্ষিণ-পূর্বে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তু আঘাত হানে। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এটি আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজটির নাম এভার লাভলি। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটি হামলার পরও যাত্রা অব্যাহত রেখে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি।
আইএমও জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজটি তাদের নির্ধারিত উদ্ধার ব্যবস্থার আওতায় চলাচল করছিল না। তবুও ঘটনাটি নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। সংস্থাটি বলছে, নাবিকদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং সংশ্লিষ্ট সব দেশের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হাজার হাজার নাবিক আটকে পড়েছেন। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর আইএমও উদ্ধার পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও সর্বশেষ হামলার ঘটনায় সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।