
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন এক হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক স্থানে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) রাতে এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অসংখ্য ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়, অনেক ভবন ধসে পড়ে এবং অনেক স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবারও একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানিয়েছেন, সর্বশেষ হিসাবে নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৩৫ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অনেক মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একটি ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এক কিশোরীর কান্নার শব্দ দীর্ঘ সময় শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একই এলাকায় আরেকটি ভবনের নিচে তিনজন জীবিত থাকার শব্দ পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও মেক্সিকো উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দুটি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার এবং ১৫ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া চীন, ভারত, ব্রাজিল ও ইরানও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির জন্য প্রাথমিকভাবে এক লাখ ইউরো সহায়তা পাঠিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, ১২৬ বছরের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ও ব্যাপক উদ্যোগ প্রয়োজন।