
ঢাকার একটি আদালতে বিচারাধীন ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য একজন নারীকে আদালতে আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিন নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় আটক নারী, মূল আসামি এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলাটি নিবন্ধিত হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-৪-এর আদালতে বিচারাধীন একটি চেক ডিজঅনার মামলায় মূল আসামির পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম নামে এক নারী আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক শুনানির সময় তার পরিচয় ও মামলার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এতে আদালতের সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে আদালতের নথি, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, আত্মসমর্পণকারী নারী মামলার প্রকৃত আসামি নন। এরপরই ঘটনাটি আদালতের নজরে আনুষ্ঠানিকভাবে আসে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেন আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আদালতের কাছে এমন তথ্য উঠে এসেছে যে, মামলার নথিতে ভুয়া ওকালতনামা প্রস্তুত করে তা আদালতে দাখিল করা হয়েছিল। তদন্তের মাধ্যমে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।
আটক মনোয়ারা বেগম আদালতে দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং বিষয়টির আইনগত দিক সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন আইনজীবীর ডাকে তিনি আদালতে এসেছিলেন এবং এটি যে অপরাধ হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির করা হয়। এই ঘটনায় মূল আসামি নাসরীন সিকদার এবং আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসেনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
মূল মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে ফ্ল্যাট কেনাবেচা সংক্রান্ত একটি আর্থিক লেনদেন হয়। সেই লেনদেনের অংশ হিসেবে দেওয়া ২৯ লাখ টাকার একটি চেক পরবর্তীতে ব্যাংকে উপস্থাপন করলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা অসম্মানিত (ডিজঅনার) হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
চেক ডিজঅনার মামলায় প্রক্সি হাজির করিয়ে জামিন নেওয়ার চেষ্টা আদালতের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দণ্ডবিধির ২০৫, ৪১৯, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৩৪ ধারায় এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারার বিধান অনুসরণ করে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মামলার তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।