
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকাসহ মোট ১৩ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। একই সময়ে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে, যা নৌযান চলাচল ও নদীপথে চলাচলকারীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নৌযান পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেকটি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অনেক স্থানে বৃষ্টির তীব্রতা সময়ভেদে বাড়তে পারে।
বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি এবং কিছু এলাকায় অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। অতিবৃষ্টির কারণে নিচু এলাকা, নগরাঞ্চল এবং পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতা বা স্থানীয়ভাবে দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। ফলে বজ্রপাত, দমকা হাওয়া এবং ভারি বর্ষণের সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে অবস্থান না করা, খোলা স্থানে আশ্রয় না নেওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া নদীপথে যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণ, নৌযান চলাচল কিংবা খোলা আকাশের নিচে কাজের পরিকল্পনা করার আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করা নিরাপদ হবে।