
দেশের ব্যাংকিং খাত, অর্থ পাচার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবু আহমেদ। সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের অনেক ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও সেগুলোর একটি অংশ লুণ্ঠনের শিকার হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
ড. আবু আহমেদের ভাষায়, “শিক্ষিত চোররা দেশের টাকা লুট করে পালিয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি বিপুল অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে। তার মতে, এসব ঘটনার ফলে দেশের আর্থিক খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করে না। ব্যক্তি ও সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, যদি মানুষ নিজের অবস্থার পরিবর্তন না চায়, তাহলে অন্য কারও পক্ষে তাদের সমৃদ্ধ করা কঠিন।
পুঁজিবাজারের প্রসঙ্গ টেনে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, একসময় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ছিল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই সুবিধাগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা আগের মতো উৎসাহ পাচ্ছেন না।
তিনি অভিযোগ করেন, এখন বিনিয়োগকারীদের ওপর করের চাপ বাড়ছে, যা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক নয়। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে করনীতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
ড. আবু আহমেদ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নেতাদেরও আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, বর্তমান কর কাঠামো ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তুলনামূলক উদাহরণ হিসেবে তিনি ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, পাকিস্তান ও ভারতের করহার পর্যালোচনার পরামর্শ দেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের করনীতি আরও ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগ সহায়ক হতে হবে।