
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ঘটনায় দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সংঘটিত এই দুই ভূমিকম্পের কারণে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দেশটির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপে এলাকার কাছে।
প্রথম কম্পনের কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় এবং আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ এবং এটি কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমার এলাকার কাছে সংঘটিত হয়।
দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ দ্রুত উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জনগণকে শান্ত থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
ভূমিকম্পের কম্পন শুধু ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন অঞ্চলে নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।