
লক্ষ্মীপুরের এক কলেজছাত্রীর দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার পরিবারের সদস্যদের। প্রায় দুই মাস আগে বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকে আর ফিরে আসেননি লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তার নিশি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল সকালে কলেজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন নিশি। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
নিখোঁজ ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, নিশি কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেকের মেয়ে। তার বাবা ২৫ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর থেকে পুলিশ ও পরিবার পৃথকভাবে তার সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
নিশির মা ছকিনা বেগম জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর গত ৩ জুন একটি ইমো অ্যাকাউন্ট থেকে তার মেয়ে যোগাযোগ করেন। সেই সময় নিশি তাকে জানান, তাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। তবে তিনি কোথায় আছেন, সেটি বলতে পারেননি। পরিবারের দাবি, মেয়ের কণ্ঠস্বর শনাক্ত করেই তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে কলটি নিশিই করেছিলেন।
পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন তোরাবগঞ্জ এলাকা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হয় নিশি। মাঝপথে অটোরিকশাটি বিকল হয়ে গেলে তাকে অন্য একটি অটোরিকশায় উঠতে হয়। এরপর থেকেই তার অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিশির চাচা আবুল বাশার বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সময় নিশি জানিয়েছিলেন যে একটি ঘরে তাকে রাখা হয়েছে এবং একজন নারী তাকে খাবার দিয়ে যান। ওই নারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই তিনি ইমোতে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় পরিবার উদ্বেগে রয়েছে।
এদিকে পুলিশ বলছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাইয়ের কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার এসআই হুমায়ুন কবীর জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, মেয়েটি ইমোতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেলেও শুধু ইমো কলের ভিত্তিতে তার অবস্থান নির্ধারণ করা কঠিন। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার কারণ বা ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত নিশিকে খুঁজে বের করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।