
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কঙ্কালটির পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের হাতির ডেরা নামক এলাকায় সাতজন শ্রমিক গরু আনতে গিয়ে প্রথম কঙ্কালটি দেখতে পান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাইশারী বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার ওই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। সেখানে ডিভাইন রাবার গার্ডেনের গয়াল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাখাল আনোয়ারসহ শ্রমিকরা গয়াল আনতে গিয়ে একটি মানব কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলাট্য চাকমার নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে যায়। দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে তারা কঙ্কালটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটির বিভিন্ন হাড়গোড় ও মাথার খুলি ছাড়াও একটি কাঁধের ব্যাগ, কিছু ওষুধ, তারকাটা, একটি লুঙ্গি এবং একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্কালটি অনেক দিনের পুরোনো। দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণেই মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। তবে এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও দ্রুত কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বাইশারী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, “এটি কার কঙ্কাল তা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। এতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।”
একইভাবে, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামও জানিয়েছেন, কঙ্কালটি অনেক পুরোনো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পায়, ফলে রহস্য উদ্ঘাটন কঠিন হয়ে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো বিশ্লেষণ করে কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বান্দরবানের এই কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনাটি এখনো রহস্যে ঘেরা। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।