
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটানোর দায়ে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী Tik Shiro-কে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আশির দশকের শেষভাগ এবং নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই শিল্পী তার পোশাক, মঞ্চ পরিবেশনা ও নাচের ধরনে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক ভক্তের কাছে ‘থাইল্যান্ডের মাইকেল জ্যাকসন’ নামেই পরিচিত ছিলেন।
বুধবার ব্যাংককের একটি ফৌজদারি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, টিক শিরোর আসল নাম মানাসাউইন নানতাসেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেন, যার ফলে দুইজনের মৃত্যু ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে ব্যাংককের একটি সেতুর ওপর। মোটরসাইকেলে থাকা ২৮ বছর বয়সী এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা ২১ বছর বয়সী ভাই গুরুতর আহত হয়ে সেতু থেকে নিচে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে টিক শিরোকে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়। সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
থাইল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ধারণা রয়েছে যে ধনী, প্রভাবশালী বা জনপ্রিয় ব্যক্তিরা অনেক সময় আইনের কঠোর শাস্তি এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন। তাই এই মামলার রায় জনমনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, টিক শিরো তদন্তে সহযোগিতা করেছেন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। এছাড়া বিচারপ্রক্রিয়ায় সহায়ক তথ্য প্রদান করেছেন। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে তিনি নিহতদের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন এবং তাদের পরিবারের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন।
বিচারকদের মতে, এসব পদক্ষেপ তার অনুশোচনা এবং দায় স্বীকারের ইঙ্গিত বহন করে। তবে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত তাকে কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে থাইল্যান্ডে আরেকটি আলোচিত আইনি ঘটনাও সামনে আসে। জনপ্রিয় রক তারকা Sek Loso মাদক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মামলায় এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর কারাগার থেকে মুক্তি পান।
থাইল্যান্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বেশ কয়েকটি বহুল আলোচিত মামলা দেশটির বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। বিশেষ করে ২০১২ সালে Red Bull-এর উত্তরাধিকারী ভোরায়ুথ যোবিদ্যার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার অভিযোগ এবং ২০০১ সালে এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, টিক শিরোর বিরুদ্ধে দেওয়া সাম্প্রতিক রায় থাইল্যান্ডে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। তবে দেশটিতে ধনী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগের প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি মিটে যায়নি।