
দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্থিতিশীল রাখতে সার সরবরাহ, বিতরণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি ‘জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটির কাঠামো ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে দেশের সার খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সুপারিশ প্রদান। সারের চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি, মজুত, মূল্য পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিয়মিত নজরদারি করবে এই কমিটি। একই সঙ্গে কৃষকদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত সার পৌঁছানো নিশ্চিত করার বিষয়েও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, একাধিক সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
এছাড়া অর্থ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সার খাতের বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিটিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সারের বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত মূল্যায়ন করে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করবে কমিটি। কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে সার যাতে সঠিক সময়ে এবং সুষ্ঠুভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ এবং বিতরণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও কমিটির পর্যালোচনার আওতায় থাকবে। প্রয়োজন হলে কমিটি অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কো-অপ্ট করতে পারবে। এছাড়া পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত বা বিশেষ সভা আয়োজনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কমিটির প্রশাসনিক ও সচিবালয় সহায়তা প্রদান করবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা। এই ইউনিট কমিটির সভা আয়োজন, তথ্য সংগ্রহ এবং সুপারিশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পূর্বে জারি করা ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপন বাতিল বলে গণ্য হবে। নতুন গঠিত জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি অবিলম্বে কার্যক্রম শুরু করবে এবং সার খাতের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।