
চীন সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠককে বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর সাইডলাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। এ সময় দুই দেশের রাজধানী ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়, যা ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে নিয়মিত বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও কাজাখস্তান পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধন করতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি খাত, কৃষি ব্যবসা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া পানি কূটনীতি বা ‘ওয়াটার ডিপ্লোম্যাসি’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। কাজাখস্তান জাতিসংঘের অধীনে একটি বিশেষায়িত সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতা জোরদার করা। এই উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশ এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখে এবং এ বিষয়ে সমর্থন প্রদান করবে। তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা বর্তমান বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সময়ের দাবি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশই পারস্পরিক লাভবান হতে পারে। ভবিষ্যতে এই আলোচনা বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।