
দীর্ঘ কয়েক মাসের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে আটকে পড়া শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি বড় আকারের উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই এই অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওমান, ইরান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উপকূলীয় দেশ এবং সামুদ্রিক শিল্প খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার কারণে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ফলে অনেক জাহাজে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় রসদ ফুরিয়ে আসছিল।
এই সংকটের মধ্যে আটকে থাকা নাবিকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগে ছিলেন। প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে অন্তত ১৪ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অভিযান শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করেছে আইএমও।
এই উদ্ধার অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর বড় একটি অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ফলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি বাজার, শিপিং কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল এখন এই উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান সফল হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরতে পারে এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে শুরু করবে।