
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে হলে এখন থেকে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে মার্কিন সিনেট। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে অনুমোদন পায়। এর আগে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব পাস হয়েছিল।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক তৎপরতায় যুক্ত মার্কিন বাহিনী থাকলে তাদের প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও এই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই এবং এর আইনি কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবুও এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধক্ষমতার ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, কংগ্রেসের দুই কক্ষই চায় না প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিচালিত হোক। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধক্ষমতার সীমা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতাকে আরও বিস্তৃত চুক্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের অবস্থান হলো, প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার এই উদ্যোগ অসাংবিধানিক।
হোয়াইট হাউস আরও দাবি করেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কার্যত শেষ হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।