
উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি আরও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশটির নৌবাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার ঘোষণা দিয়েছেন শীর্ষ নেতা কিম জং উন। একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে পারমাণবিক শক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রাখা হবে এবং নৌবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সাম্প্রতিক বৈঠকেও কিম জং উন পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক চাপের মুখে পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
কিম জং উন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশটির যুদ্ধজাহাজগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হবে। পাশাপাশি উন্নত অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। চলতি বছর উত্তর কোরিয়া একটি নতুন ৫ হাজার টন ওজনের ডেস্ট্রয়ার থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে এখন আর তেমন কোনো সংশয় নেই। বরং দেশটির দ্রুত অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। গবেষকদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক সম্পদ এমনভাবে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রেখেছে যে একক কোনো সামরিক হামলার মাধ্যমে তা ধ্বংস করা কঠিন।
কিম জং উন আরও ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর অন্তত দুটি করে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি রেল ও সড়কভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা এবং সাবমেরিন বহর সম্প্রসারণের কাজও চলবে। এসব পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘোষণা কোরীয় উপদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যের ওপর নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।