
বর্তমান বিশ্বে পানি সংকট ক্রমেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে। এই সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এশিয়া ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ওয়াটার কনসালটেটিভ বোর্ড (এএডব্লিউসি)-এর মহাসচিব হা সাং জে-এর নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পানি সংকট, পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্পিকার বলেন, পানি সমস্যা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে এটি অনেক দেশের জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—পানি সংকটের প্রভাব আরও গভীরভাবে অনুভব করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর প্রবাহের পরিবর্তন এবং পানির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্পিকার মনে করেন, পানি সংকট কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; এটি একটি আন্তঃসীমান্ত ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। ফলে এর কার্যকর সমাধানে গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময়, তথ্য আদান-প্রদান এবং নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।
বৈঠকে এএডব্লিউসির মহাসচিব হা সাং জে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক পানি সংকট মোকাবিলায় আইনপ্রণেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যদের এএডব্লিউসির সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালে লাওস-এ অনুষ্ঠিতব্য এএডব্লিউসির বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য স্পিকারকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে উভয় পক্ষ পানি নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক মত বিনিময় করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়ার বহু অঞ্চলেই খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং পানির ঘাটতি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ পানি সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্পিকারের এ আহ্বানও সেই যৌথ প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।