
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে সাতজনকে সাভারের আমিনবাজার তুরাগ এলাকা থেকে এবং আরও সাতজনকে আশুলিয়ার তুরাগ নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, ব্যানার প্রদর্শন এবং দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনা চলছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগেই ঢাকা জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সোমবার থেকেই পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও নাশকতা ও হত্যা-সংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত আরও গভীরভাবে করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাভার এলাকায় সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ ব্যবস্থার আওতায় সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তবে পুলিশের দাবি, তারা গোপনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত ছিল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে গুজব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা এড়াতে সহায়ক হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সাভার ও আশুলিয়ার এই অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।