
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সামান্য কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৭.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও কমে ৭৩.৭৪ ডলার হয়েছে। আগের দিনও এই দুই ধরনের তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমে এসেছে। শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী দুটি ট্যাংকার ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে, যা বাজারে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির বড় অংশ এই পথ দিয়েই বিশ্ববাজারে পৌঁছে। ফলে এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার কারণে এই অঞ্চলে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞায় ৬০ দিনের ছাড় দেওয়ার পর বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এর ফলে তেল সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমে আসে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পুরোপুরি নিরসন না হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে তেলের দাম দীর্ঘমেয়াদে কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশটির কৌশলগত তেল মজুদ সাম্প্রতিক সময়ে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মজুদ হ্রাস ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়।
বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে। পরিবহন, উৎপাদন ও শিল্প খাতে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। তাই হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত রুটে স্থিতিশীলতা বজায় থাকাকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তারা ভূরাজনৈতিক উন্নয়ন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। কারণ যেকোনো নতুন উত্তেজনা আবারও তেলের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা সৃষ্টি করতে পারে।