
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে ছিয়াকুল (৩৮) নামে এক মালির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের চত্বরে প্রভোস্ট বাংলোর বাগানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ছিয়াকুল নড়াইল জেলার কালিয়া থানার দেবদুন গ্রামের বাসিন্দা রয়জুলের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগান ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে মালি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহকর্মী সুনীল জানান, মঙ্গলবার সকালে ছিয়াকুল কাঁঠাল পাড়ার উদ্দেশ্যে গাছে ওঠেন। গাছে থাকা একটি কাঁঠাল হঠাৎ তার শরীরের ওপর পড়ে। এতে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বেলা ১১টায় মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। তিনি বলেন, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। সহকর্মী ও কর্মচারীদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগান পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত কর্মীরা জানিয়েছেন, গাছে উঠে কাজ করার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গাছ থেকে কাঁঠাল সংগ্রহের সময় কোনো ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ফলে ভারী ফলটি শরীরে পড়ার পর ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আঘাত পান।
এ ধরনের দুর্ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কর্মীরা মনে করছেন, নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
ছিয়াকুলের মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। সহকর্মীরা তাকে একজন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে স্মরণ করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন একটি দুর্ঘটনা ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও কর্মীদের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মৌসুমি ফল সংগ্রহ বা গাছের উচ্চতায় কাজ করার সময় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।